মুআয আল জুহানী
চতুর্দিকে আজ একি আওয়াজ, একি গুঞ্জরণ।
বাল্যবিয়েকে না বলুন।
কুড়িতে বুড়ি নয় বিশের আগে বিয়ে নয়।
হয়তবা অনেকে খারাপ ভাবতে পারেন।অনেকে হতে পারেন ক্রুধান্বিত।
কিন্তু একটু চিন্তা করুণ।।
একটু ভাবুন।।
সমাজের চিত্রটা সামনে আনুন।
গত ২৬তারিখ দেওবন্দ সফরে এসেছিল দিলশাদ নামক এক লোক বাসা তার দিল্লী ।মাদানি গেইটের সামনে তার সাথে সাক্ষাত। তাকে দেখে খুব বিষন্ন মনে হচ্ছিলো।
আভিজাত্যের ছাপও ছিলো তার চেহারায় স্পষ্ট।
সালাম দিলাম তাকে। কিছু কথাবার্তা হলো।মোটমোটি ফ্রি হয়ে গেলাম তার সাথে।
আমি বললাম :কি হয়েছে, এত বিষন্ন দেখাচ্ছে কেন আপনাকে ?
সে বললো:আমার মেয়েটা দিল্লী ইউনিভার্সিটিতে অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়তো।বয়স তার একুশ।আমি ভাবলাম মেয়েটাতো বড় হয়েছে,বিয়ে দেয়া দরকার।আমি ওরজন্যে একটা ছেলে পছন্দ করি।
ছেলের পরিবারের সাথে কথা বলে মেয়েকে দেখার একটা তারিখ ও নির্ধারণ করি।কিন্তু যখন আমি আমার মেয়েকে বললাম, আজ তোকে দেখতে আসবে,বাসায় থাকিস।
তখনি ঘটে বিপত্তি। ও বললো বাবা আমি আয়েযকে ভালবাসি।আমি বিয়ে বসলে ওর কাছেই বসবো।(আয়েয আমাদের পাশের বাসার ছেলে।ওর একটা দোকান আছে মুদির ওটা দিয়েই ও চলে।ছোটবেলায় ও আমার মেয়ে মালিহার সাথে পড়তো।মুলত তখন থেকেই হয়েছিল তাদের মাঝে প্রেমটা।ও জনিয়েছে দশ বছর যাবত চলছে ওদের এ অবৈধ প্রণয়।)তখন আমি ওকে খুব করে বুুঝাই,দেখো মা এখানে তোমার শান্তি হবে না।তুমি একটা শিক্ষিত মেয়ে,তুমি এমন বলতে পারো না মা।আমি তোমাকে এতদিন কেন পড়িয়েছি মা?শুধু এ জন্যেইতো যে,তুমি আমাদের মুখ উজ্জল করবে।তোমাকে আমাদের পছন্দের একটা ভালো জামাই দেখে বিয়ে দেবো।মা তুই আর কোন কথা বলিস না, যা হয়েছে মন থেকে মুছে ফেল।আর ভালোভাবে রেডি হয়ে থাকিস।আমি জুহরের নামাজ আদায় করেই ওকে নিয়ে আসবো।
আমি চলে যাই কিছু বাজার সদায় করতে হবে বলে।কতক্ষণ পর বাজার নিয়ে ঘরে ফিরে,ওকে ডাকলাম। কিন্তু ও কোন উত্তর দিচ্ছিলো না।আমি বারবার ডাকতে লাগলাম মালিহা!মা মালিহা!কোথায় আছিস তুই মা?কিন্তু কোন উত্তর নেই। আমি ওর রুমের সামনে গেলাম।দেখি ভেতর থেকে দড়জাটা আটানো।আঘাত করি দড়জায়।না তবুও কোন উত্তর নেই।অবশেষে উপায়ন্তর না হয়ে, দড়জা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করি।
দেখি ওর প্রাণহিন লাশটা ঝুলে আছে ফ্যানের সাথে।(ততক্ষণে কান্নায় তার গন্ডদ্বয় ধৌত হয়েছে।)
সে বলে যেতে লাগলো,ওর আম্মু পাঁচ ছয় বছর আগে বলেছিলো,ওকে বিয়ে দেয়ার কথা।কিন্তু আমি তখন বলেছিলাম মেয়ে এখনো ছোট।এখনি না,পরে।
কিন্তু ও যে দশ বছর আগেই বড় হয়ে গেছিলো সেটাতো আমি বুঝতে পারিনি।
আহ যদি ওকে দশ বছর বয়সে বিয়েটা দিয়ে দিতাম।প্রয়োজনে এখন উঠিয়ে দিতাম। আর এতদিন ও পড়তে থাকতো।তাহলেতো আজ আমার এ অবস্থা দেখতে হতো না।
তার শেষের কথাগুলো আমার কাছে খুব যুক্তিসম্মত মনে হলো।সত্যিইতো যদি প্রত্যেকটা ছেলে মেয়েকে দশ এগারো বছর বয়সে বিয়ে করানো হতো,আর উঠিয়ে নেয়া হতো কয়েক বছর পর।ওদিকে ওরা লেখা-পড়াও চালিয়ে যেতো।আর প্রেম করার মন চাইলে ওর সাথে করতো,তাহলে আজ সমাজ এতো অবক্ষয়ের শিকার হতো না।
আজ এটা শুধু আয়েয ও লামিহার গল্পই নয়,বরং ফাইভ সিক্স পড়া প্রত্যেকটি ছেলের অবস্থা।এ ইন্টারনেটের যুগে,এথেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো বাল্যবিবাহ।কেননা আজ প্রাপ্তবয়স্ক হতে ছেলে মেয়েদের আঠারো বছর না, পনেরো বছরো না,দশ বছরি যথেষ্ট।
বিয়ের পর দুজনি পড়ুক।এবং স্বামির বাড়িতে উঠিয়ে নেয়ার কাজটা হোক প্রয়োজনে একটু দেরিতে।
তাহলে দেখবে রাস্তা ঘাটে কোথাও না হবে কোন ইভটিজিং, আর না মরবে লামিহারা গলে ফাসি লাগিয়ে।
আল্লাহ আসান করো।আমাদের সমাজকে রক্ষা করো।আমিন।

No comments:
Post a Comment