Showing posts with label ভ্রমণ কাহিনী. Show all posts
Showing posts with label ভ্রমণ কাহিনী. Show all posts

Tuesday, 17 April 2018

আজমীর সফর(২)

মুআয আল জুহানী


বাহিরে প্রচন্ড শীত।রাজস্থানেরর রাজধানী জয়পুরে আমরা অবতরন করলাম।রেল স্টেশনটাও কেল্লা টাইপের।কিছু মিনারা নিয়ে দাড়িয়ে আছে শতবছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্টেশনটি।সামনে স্থাপন করা হয়েছে গান্ধীজীর বড় বড় চশমা পরা বৃহদাকার একটা মূর্তি।পাশেই তার দাড়িয়ে আছে লাল কাপরের শার্ট ও মাথায় লাল বেরী পরা কিছু লোক।দেখে মনে হচ্ছিলো সিনেমার এক্টার ফেক্টার হবে।আমি এমনি একটু কৌতূহলী।আবার কিছু লোককে দেখলাম দাড়িও আছে।আমার উৎসুক চিত্ত কিছুতেই দমলো না।এগিয়ে গেলাম একজন দাড়ি ওয়ালা ভায়ের কাছে।জিজ্ঞেস করলাম, তারা আসলে কি?

তিনি উত্তর দিলেন,আমরা সকলি কুলি,এবং আমরা সকলি মুসলমান।তিনি এটাও বললো,এখানে যতসব ড্রাইভার দেখছো তারাও মুসলমান।এখানে মুসলমান সংখ্যা গরিষ্ঠ। মনে আনন্দ পেলাম উনার এ কথাটা শুনে।কিন্তু পরক্ষণেই মনটা ব্যথায় চিনচিন করে উঠলো,মুসলমান সকলে কুলি হওয়ার কথা ভেবে।
জিজ্ঞেস করলাম সবাই কুলি কেন, অন্যকিছু করে না?
বললো করে,ড্রাইভারি,লিফটের কাজ,ব্যবসা ইত্যাদি।
ফের জিজ্ঞেস করলাম, শিক্ষিত কেউ নেই?সরকারী চাকরি করে?
বললো তিনি, কলেজ পাশ অনেক শিক্ষিতই আছে,কিন্তু সরকারি চাকুরী কারো ভাগ্যেই জুটে না।অপরাধ তার,সে মুসলিম।আমিও বি এ পাশ।
আমাদের ঘারে আজ গোলামী চাপিয়ে দিয়েছে।
এখানেই একদিন আমাদের বাপ দাদারা শাসন করেছে।আজ আমরাই এখানে গোলামীর জীবন যাপন করছি।বলতে বলতে ভায়ের শশ্রুমন্ডলী অশ্রু বন্যায় সিক্ত হয়েছে। আমিও কিছু বলতে পারছিলাম না,কান্নার চাপে।কিছুক্ষণ পর কান্নাকে কিছুটা দমিয়ে তাকে শান্তনা দিলাম,আর বললাম সর্বকালই যে কোন জাতির পতন হয়েছে শুধু দায়িত্বহীন কর্ণধার ও গাদ্দারদের কারণে।আর তার মাশুল দিতে হয়েছে সাধারন জনগণের।

অবশেষে শান্ত্বনা স্বরুপ বললাম,সে যাইহোক তোমাদের পিছিয়ে গেলে চলবে না।
তোমরা কখনো হীনমন্য হয়ো না।
লেখা -পড়া চালিয়ে যাও।সন্তানদের শিক্ষিত বানাও।
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। একদিন আমরা, আমাদের সে হারানো ক্ষমতা ফিরে পাবো ইনশাল্লাহ।

স্বাধীনতা যুদ্ধের অগ্রনায়ক, আহবায়করা মুসলিম নেত্রীবৃন্দ হওয়া সত্বেও আজ আমরা এমন নিগৃহীত, বঞ্চিত, লাঞ্চিত।কেন?শুধু মাত্র ক্ষমতা না থাকার কারণে।
তাই তোমরা শিক্ষিত হও।ক্ষমতা অর্জন করো।তোমার অধিকার তোমাকেই আদায় করতে হবে।
আবারো চাই একটা বিপ্লব।

তখনি উপস্থিত হলো এক শিখ।উনি দুআ কি দরখাস্ত হ্যায়,বলে চলে গেলো।

চতুর্দিকে আযান দিতে শুরু করেছে মুআযযিনগণ।
এখনো আসেনি আমাদের ইস্তেকবালকারী।
দাড়িয়ে রইলাম অপেক্ষায়,,,,
চলবে,,,,, ইনআশাল্লাহ,,,

আজমীর সফর

মুআয আল জুহানী


বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে চলছে ট্রেন।।।

(এক সপ্তাহ হয়ে গেলো সফর থেকে ফেরার,কিন্তু দরস শুরু হয়ে যাওয়ায় লেখার সময় করে উঠতে পারছিলাম না।
আজ বৃহস্পতিবার। ভাবলাম ছোট করে একটু লিখে ফেলি।)

ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখ। বুখারীর মাধ্যমে আজ পরীক্ষার সমাপ্তি হয়েছে।
পরীক্ষা শেষে আর দেরি করিনি।বিকেল৫-১০এ ছিলো আমাদের ট্রেন। রওয়ানা হয়ে যাই।

দিল্লী পেরুতেই আবু যাইদ সারুজির সাক্ষাত পাই।
সে কাওয়ালি গাচ্ছে, আর হাতিয়ে নিচ্ছে মুটো ভরে টাকা।

ঘড়ির কাটা পৌছে গেছে রাত ১০টায়।সকলি স্ব স্ব সিটে কম্বল বালিশ নিয়ে ঘুমের কোলে ঢলে পরছে।
সাথিরাও সকলে হারিয়ে গেছে ঘুম রাজ্যে।

চতুর্দিকে সুনসান নিরবতা।মাঝে মাঝে ভেসে আসছে কারো কারো নাক ডাকার প্রকট আওয়াজ।ট্রেনের টক্কর টক্কর শব্দ যেন তাদের কর্ণে পৌছুচ্ছে না।

ট্রেনের নিরব মুহূর্তটা গনিমত হিসেবে গ্রহণ করলাম।ডাউনলোড করে নিলাম,#মুস্তফা #লুতফীর প্রসিদ্ধ আরবি উপন্যাস #আবারাত বা কান্নারা।

একটা একটা করে পাতা উল্টোতে লাগলাম।
#যিকরা নামক শিরোনামে আমার নজর আটকে গেলো।

পড়তে শুরু করেছি।একটা একটা পৃষ্ঠা হারিয়ে যাচ্ছে স্ক্রিনে।আমি গোগ্রাসে গিলতে লাগলাম। আমার দৃষ্টি যেন এটে গেছে বইয়ের পাতায়।কখন যে গল্পটি শেষ হয়ে গেলো তা টাহরও করতে পারি নি।স্পেনে মুসলমানদের পরাজয় ও জংগি,সন্ত্রাসী খৃস্টানদের হাতে মুসলমানদের গণহত্যা প্রচন্ড পীড়া দেয় আমায়।মনে মনে নিজেদেরকে খুব ধিক্কার দিই।একসময় যারা ন্যায়-ইনসাফ দিয়ে পৃথিবী ভরে দিয়েছিলো,আজ তারা নির্যাতিত,অপমানিত।

তারা নাকি আজ সন্ত্রাসী?জংগী?
অথচ ইতিহাসের পাঠক মাত্রই জানে,কাদের ইতিহাস অত্যাচারের, আর কাদের সুবিচারের।

রাসূল সা: এর ২৩বছরের নববী জীবনে৫৩টি সন্ত্রাসদমন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা যেখানে ১০০০ছাড়ায়নি।
সেই নবী নাকি আজ সন্ত্রাসী???নাউযুবিল্লাহ।

স্পেন দখলে খৃস্টান রাজা ফার্ডিনেন্ড ১০,০০০এর অধিক মুসলমান হত্যা করে।

খৃস্টান রাজা হিটলার ৬০,০০০হাজার ইহুদি একত্রে হত্যা করে।

রুশবিপ্লবের সময় নাস্তিক লেনিন ১,০০,০০০ধিক মুসলমান ও খৃস্টান হত্যা করে।

ভারত দখলে খৃস্টান বৃটিশরা লাখ লাখ হিন্দু,মুসলমান আলেম,ওজনগণকে হত্যা করে।

আফগানিস্তানে রুশ ও মার্কিন সেনারা লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যা করে।মা বোনদের ইজ্জত হনন করে।

আর উদাহরণ দেবো না।তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগীরীর উদাহরণ দিতে গেলে শত শত পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যাবে তবুও তাদের সন্ত্রাসীর বর্ণনা শেষ হবে না।

অবশেষে একটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করছি।যেটা না বললেই না হয়।
#মায়ানমারে মুসলিম নিধন।যা আজ কারো চোখে গোপন নয়।
এটা কাদের দ্বারা হচ্ছে যেন?ও শান্তিরদূত বৌদ্ধদের দ্বারা।এরা সন্ত্রাস নয়? এরা জংগী নয়?

একজন আফগানী মুসলিম যখন হানাদার, সন্ত্রাসী,জংগী একজন রুশ বা মার্কিনীর গুলির সামনে ঢাল ধরবে তখন সে হয়ে যাবে সন্ত্রাসী, জংগী।

একদল বাঙ্গালী মুসলিম যখন তাদের রুহিঙ্গা ভাইদের জন্যে মিছিল করবে তখন সে হয়ে যাবে জঙ্গী,সন্ত্রাসী??????

হায়রে বিবেক?

এসব ভাবতে ভাবতে কোনদিক দিয়ে যে ঘুমিয়ে গেলাম টেরও পাইনি।৪টার দিকে শাকিল ভাই এসে ডাকতে লাগলো মুআয!জলদি উঠো।ট্রেন গন্তব্যে চলে এসেছে।

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর আমরা অবতরণ করি।বাহিরে প্রচন্ড শীত অনুভব করি।
গা কাঁপতে শুরু হলো।

বিশ্বসন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী গণ আন্দোলন প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ:১-১১-২০২৪ ঈ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ:১-১১-২০২৪ ঈ. ফিলিস্তিনে জায়নবাদী সন্ত্রাসী কর্তৃক গণহত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন বায়তুল মোকাররমের উত্তর...