Friday, 1 November 2024

বিশ্বসন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী গণ আন্দোলন প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ:১-১১-২০২৪ ঈ



প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তারিখ:১-১১-২০২৪ ঈ.

ফিলিস্তিনে জায়নবাদী সন্ত্রাসী কর্তৃক গণহত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন

বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে, জুমার নামাজের পর, মুসলমানদের তীর্থভূমি ভূমি, ফিলিস্তিনের উপর জায়নবাদী ইয়াহুদী সন্ত্রাসীদের গণহত্যা বন্ধের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে , নিরপরাধ ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী ও শিশুদের উপর জায়নবাদী সন্ত্রাসীদের ব্যপক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানান সংগঠনের সদস্য মাওলানা শাফায়াত আহমদ, তিনি ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতনের কিছু চিত্র তুলে ধরেন।আরশাদ মাহদী বলেন আমরা মুসলমান ভাইদের একা ছেড়ে দেব না। আমরা রক্ত দিয়ে হলেও আকসা স্বাধীন করবো ইনশাআল্লাহ। লেখক ও অনুবাদক মাওলানা শারাফাত শরীফ বলেন, ফিলিস্তিনিরা নিজ দেশে মুক্তিযুদ্ধ করছে ইজরাইলিদের আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণের কোন অধিকার নেই,  তারা জবর দখলকারী । মাওলানা আহমদুল হক কাসেমী বলেন, ২৪ এর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আমাদের ৭৩ জন মাদ্রাসা ছাত্র , ও উলামায়ে কেরাম শহীদ হয়েছেন। রাষ্ট্রবিনির্মাণে আমাদেরও অংশগ্রহণ রয়েছে সুতরাং সরকারকে আমাদের দাবি মানতে হবে।

সংগঠনের আহবায়ক মাওলানা মুআয আল জুহানী বলেন , ফিলিস্তিন মুসলমানদের ভূমি। দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর রা. খ্রিস্টানদের হাত থেকে তা উদ্ধার করেন। তখন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত মুসলমানদের আবাসভূমি হিসেবেই আছে। মাঝে কিছুদিন খ্রিস্টানরা সেখানে উপনিবেশ কায়েম করে। অতঃপর মহাবীর সালাহুউদ্দীন আইউবী ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে ফিলিস্তিন পূণরায় খ্রিস্টানদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। এভাবে উসমানী খেলাফতের পতনের পূর্ব পর্যন্ত মুসলমানদের একক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে খেলাফতের অধীনে পরিচালিত হয়। অবশেষে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জার্মানিতে তাদের অপকর্মের কারণে নির্যাতিত হয়ে , ইহুদীরা ফিলিস্তিনে বসতি গড়তে তৎকালীন উসমানী খলিফা আব্দুল হামিদ এর কাছে অনুমতি কামনা করে । কিন্তু তিনি তাতে সম্মত না হওয়ায় , ইহুদি হারজেল ব্রিটিশদের কাছে ব্যাপক অর্থের বিনিময়ে  ফিলিস্তিনে জায়গা দেওয়ার ব্যাপারে চুক্তি করে । এবং সকল সন্ত্রাসী শক্তি মিলে ইসলামী খেলাফতকে ধ্বংস করে । তখন থেকে ইহুদীরা সেখানে বসতি স্থাপন শুরু করে এবং১৯৪৭ ও ১৯৬৭ আরব ইসরাইল যুদ্ধ হয়। সেখানে আরবদের পরাজয়ের কারণে ইয়াহুদীরা ফিলিস্তিনের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয়। আর তখনই জন্ম হয় হামাস মুক্তি যোদ্ধাদের। সন্ত্রাসী ইসরাইলিদের হাতে, শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধারা নিপীড়িত হচ্ছে । বিশেষ করে, গতবছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ ( তুফানুল আকসার) এর পর থেকে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় পুরো বিশ্বের সকল মানবতার ফেরিওয়ালারা আজকে নিশ্চুপ। মুসলিম দেশগুলোও ফিলিস্তিনকে সাহায্য করার পরিবর্তে সন্ত্রাসী ইজরাইলিদের পদলেহনে লিপ্ত। সুতরাং আমরা যেন তাদের কাতারে শামিল না হই। সে উদ্দেশ্যে আমাদের ও সরকারের করণীয়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

সরকারের কাছে আমাদের দাবি:

১. পাসপোর্টে “ এক্সেপ্ট ইসরাইল”  যা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বাতিল করা হয়, তা পূনস্থাপন করতে হবে।

২. ফিলিস্তিনীদের সাহায্যের জন্য সরকারী তাহবিল গঠন করতে হবে।

৩. রাষ্ট্রিয়ভাবে ইসরাইল ও তার সহযোগীদের পণ্য বয়কট করতে হবে।

৪. আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে ।

মুসলিম উম্মাহর করনীয়

১. সারা বাংলাদেশে প্রত্যেক মসজিদের খতিবগন জুমার বয়ানে ফিলিস্তিনের ইস্যু জাগরুক রাখবেন, ইমাম সাহেবগণ ফজর নামাযে কুনূতে নাযেলা রবেন।

২. প্রতিদিন কমপক্ষে দুই রাকাত সালাতুল হাজত ফিলিস্তিনী ভাইদের জন্য আদায় করবেন।

৩. ইজরাইল এবং তাদের সহযোগীদের সকল পণ্য বয়কট করবেন।

৪. সারা দেশে সকল স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, ও মাদ্রাসার ছাত্ররা নিয়মিত মিছিল, আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।

৫. ফিলিস্তিনের মুসলমানদের সহযোগীতায় আমাদের জান-মাল সর্বোচ্চ সাধ্য অনুযায়ী ব্যয় করা।

৬. আমেরিকান এম্বাসি ঘেরাও করা এবং ইজরাইলকে সাহায্য বন্ধে বাধ্য করা।

উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী বিদ্যাপীঠ দারুল আরকাম আল ইসলামিয়া উত্তরা ঢাকার, সম্মানিত মুহাদ্দিস মুফতী নুরুল্লাহ সাহেব। ও মুফতী হুসাইন আহমদ সাহেব, শায়খ ইব্রাহীম সাহেব, মুফতী ইমরান সাহেব, মাওলানা জুবায়ের করিম কাসেমী সাহেব সহ সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক ও ধর্মপ্রাণ নাগরিকগণ।

বার্তাপ্রেরক                                                          

মাওলানা শারাফাত শরীফ কাসেমী

সদস্য: বিশ্বসন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী গণআন্দোলন।

ফোন: 01961881390

বিশ্বসন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী গণ আন্দোলন প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ:১-১১-২০২৪ ঈ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ:১-১১-২০২৪ ঈ. ফিলিস্তিনে জায়নবাদী সন্ত্রাসী কর্তৃক গণহত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন বায়তুল মোকাররমের উত্তর...